প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 4, 2026 ইং
সরকারি বাসায় নারী নিয়ে রাতযাপন ডিএফও আবুল কালামের!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না বন কর্মকর্তাদের নিয়ে। ১৭টি বিয়ে নিশিকন্যা নিয়ে রাত যাপন, এরকম আরো বহু কেলেঙ্কারী ঘটেছে বন কর্মকর্তাদের নিয়ে। এর সর্বশেষ সংস্করন হচ্ছে মৌলভবিাজার বনপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো: আবুল কালাম। তার বিরুদ্ধে বহিরাগত রমনী নিয়ে মৌলভীবাজরের সনরকারি বাসায় রাত কাটানোসহ সরকারি বরাদ্দ লোপাট ও বিভিন্ন ধরণের অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠেছে।
আরো জানা যায়, তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন সরকারি দুটি গাড়ি। কর্মস্থলে না গিয়ে অধিকাংশ সময়ই বাসায় কাটান। কর্মচারী কাশেমকে দিয়ে তিনি বডি ম্যাসাজও করান। এছাড়া কর্মচারীদের ব্যস্ত বা তটস্থ রাখতে কারণে-অকারণে শোকজ করেন। চাকরি খাওয়ার ভয় দেখান প্রতিনিয়ত। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন অধিনস্থ কর্মচারীদের। ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার অধীনে মানুষ যেমন নিরাপদ নয় তেমনি বন্যপ্রাণীও কারণে অকারণে তার আক্রোশের শিকার হয়ে বিলুপ্ত হবে বলে সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, স্বৈরাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এক বছর তাকে ঢাকা বন অধিদপ্তরে ওএসডি করে রাখা হয়। গণমাধ্যমের দীর্ঘ তিন মাসের অনুসন্ধানে এমন চিত্র ওঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে আারো জানা যায়, গত বছরের ২৫ আগস্ট মৌলভীবাজারের সিলেট বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কার্যালয়ে যোগদান করেই ফের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের মতো বেপোরোয়া হয়ে ওঠেন ডিএফও আবুল কালাম। নিজেকে স্বঘোষিত বনের রাজা বলে দাবি করেন। তার আগের কর্মস্থলেও একইভাবে কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও অনৈতিক কার্যক্রমের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। যশোর সামাজিক বন বিভাগে স্টাফদের সঙ্গে অসদাচরণ করায় তারা কালামকে অফিসে অবরুদ্ধ করে রেখেছিনেন। কর্মচারীদের টাকা দিয়ে বাজার ও নাস্তা করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরনারী আসক্ত ও অসামজিক কর্মকান্ডের কারণে তার স্ত্রীর সঙ্গেও রয়েছে দূরত্ব।
দায়িত্বশীল নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ২৪ জুলাই রাত ১২টার দিকে নিজের ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি নিয়ে মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকায় যান। সেখান থেকে এক নারীকে তিনি গাড়িতে করে ১২টার ৪৯ মিনিটে সরকারি বাসায় নিয়ে আসেন বন কর্মকর্তা কালাম। সেখানে তাকে নিয়েই রাত যাপন করেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো-সেদিনের ট্যুর বইতে তিনি লিখেছেন, রাত ১২টায় শেরপুরে অভিযান চালিয়ে একটি পাখি ধরে নিয়ে আসেন এবং ২৫ জুলাই তা অবমুক্ত করেন। সম্ভবত ওই নারী/রমণীকেই তিনি পাখি বুঝিয়েছেন।
সূত্র বলছে, খাবার টেবিলে একজন অপরজনকে মুখে খাবার তুলে খাওয়াতেন ডিএফও এবং ওই নারী। আগন্তুক রমণী নিজেকে সরকারি চাকরিজীবী হিসাবে পরিচয় দিতেন কর্মচারীদের কাছে। এ রমণী গত কোরবানির ঈদের পরপর এবং ঈদের এক মাস আগেও একবার এসেছিলেন মৌলভীবাজারের বাসায়। সূত্র আরও জানায়, ঢাকা থেকে এ রমণী মৌলভীবাজারে এলে বাসার দ্বিতীয় তলায় ওঠা নিষেধ ছিল কর্মচারীদের। কর্মচারীরা বলছেন, ঢাকা থেকে এ রমণী এলে দুটি বিছানা প্রস্তুত করে রাখলেও ব্যবহার হতো একটি। ওই বন কর্মকর্তার আগের কর্মস্থলেও খোঁজ নিয়ে এমন অনৈতিক কাজের ফিরিস্তি পাওয়া যায়। স্বৈরাচারের আমলের শেষদিকে তিনি পাল্পউড বাগান বিভাগ কাপ্তাইয়ে দায়িত্বে থাকতেও সরকারি বাসায় উপজাতীয় সুন্দরীদের নিয়ে সরকারি বাসায় প্রায়ই রাত কাটাতেন। সেখানে এ নিয়ে অধীনস্থদের আক্রোশের শিকার হয়ে দু’দফায় তাকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা জরিমানাও দিতে হয়েছিলে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে সরকারি কাজে বিভিন্ন ধরণের বরাদ্দ কেনাকাটা নিয়েও ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন লুটেরা লম্পট হিসেবে পরিচিত এই বন কর্মককর্তা। স্টাফদের পোশাক ও জুতা ক্রয়ে তিনি চরম অনিয়ম করেছেন। নিম্নমাণের পোশাক ও জুতা গছিয়ে দিয়েছেন তাদের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আঁতাত করে টাকা ভাগবাঁটোয়ারা করেছেন তিনি। সরকারি গাড়ি ব্যবহারে কর্মকর্তাদের মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কিন্তু বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম সরকারের সে নির্দেশনাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে একাই দুটি গাড়ি ব্যবহার করছেন। স্বজন ও পরিচিতজনরা এলে সরকারি গাড়ি দিয়েই ঘোরাফেরা করান তিনি।
আরেক অভিযোগে জানা যায়, গত অর্থবছরে বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক ও অফিস সংস্কারের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। ইজিপি টেন্ডারে সে কাজ পায় আয়ুব অ্যান্ড ব্রাদার্স। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে না দিয়ে বন কর্মকর্তা আবুল কালাম নিজেই কাজ করান। অভিযোগ রয়েছে, ওয়ার্ক অর্ডার কিংবা এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ হয়নি। নামকাওয়াস্তে কাজ করে অর্ধেকের বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও কোন রেসপন্স পাওয়া যায়নি। তবে গণমাধ্যমে ইতোপূর্বে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই মহিলা আমার বোন।’ বোনকে কী আপনি মুখে তুলে ভাত খাওয়াতে পারেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি মিথ্যাচার। সরকারি গাড়ি দিয়ে তাকে রিসিভ করা এবং আবার গাড়িতে তুলে দেওয়া কতটুকু আইনসম্মত-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর দেননি গণমাধ্যমকে। (ক্রমশ:)
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাঙালি সংবাদ